পোস্টগুলি

robbery লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

তিহার জেল থেকে চার্লস শোভরাজের পলায়ন ইতিহাসের সবচেয়ে চতুর জেলব্রেক।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ আপনাদের এমন এক অবিশ্বাস্য সত্য ঘটনা শোনাব যা শুনলে কোনো হলিউড বা বলিউড ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্যও নস্যি মনে হবে। কল্পনা করুন একটি দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত জেল—যেখানে রয়েছে সিসিটিভি, সশস্ত্র প্রহরী, আর একের পর এক লোহার দরজা। আর সেই জেলের ভেতর বসেই একজন কয়েদি জেলের সমস্ত রক্ষী এমনকি খোদ জেলারকেও মাদক খাইয়ে অচেতন করে দিল তারপর প্রধান ফটক দিয়ে হেঁটে রাজকীয় কায়দায় পালিয়ে গেল। কোনো দেয়াল টপকানো নয় কোনো সুড়ঙ্গ খোঁড়া নয়—সরাসরি সদর দরজা দিয়ে। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি ১৯৮৬ সালের ১৬ই মার্চের সেই কুখ্যাত ঘটনার। স্থান দিল্লির তিহার জেল। আর মূল খলনায়ক। আন্তর্জাতিক অপরাধ দুনিয়ার অন্যতম চতুর, সম্মোহনী শক্তির অধিকারী এবং নিষ্ঠুর সিরিয়াল কিলার—চার্লস শোভরাজ যাকে দুনিয়া চেনে 'দ্য সার্পেন্ট' বা 'সাপ' নামে। আজ আমরা জানবো কীভাবে চার্লস শোভরাজ তিহার জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক জেলব্রেক ঘটিয়েছিল। ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের একটু জেনে নেওয়া দরকার  এই চার্লস শোভরাজ আসলে কে ছিল। কেন তাকে 'দ্য সার্পেন্ট' বলা হতো। চার্লসে...

মাস্টারমাইন্ডদের পতন – সুকান্ত ও চার্লির সোনার দোকান লুঠ (১৯৯০)।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। একটা নিখুঁত অপরাধের পরিকল্পনা করতে ঠিক কতটা সময় লাগে।কয়েক সপ্তাহ? কয়েক মাস? নাকি কয়েক বছর? আমরা সিনেমায় দেখেছি কীভাবে নিখুঁত ছক কষে বড় বড় ব্যাংক বা সোনার দোকান লুঠ করা হয়। কিন্তু আজ আপনাদের সামনে যে বাস্তব ঘটনাটি তুলে ধরব তা কোনো বলিউড বা হলিউড সিনেমার চেয়ে কম নয়। আজ আমরা কথা বলব সুকান্ত কদম এবং চার্লি গাং-এর সেই কুখ্যাত সোনার দোকান লুঠের ঘটনা নিয়ে। আইন-শৃঙ্খলার চোখে ধুলো দিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এই দুজন একটা গোটা সোনার দোকান ফাঁকা করে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করেছিল আর কীভাবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই অহংকার ধুলোয় মিশে গেল—আজকের ভিডিওতে আমরা তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। যদি আপনি ক্রাইম থ্রিলার ভালোবাসেন তবে আজকের এই ব্লগ টি আপনার শরীরের রক্ত হিম করে দেবে। শেষ পর্যন্ত পড়ুন কারণ গল্পের শেষ টুইস্টটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের চেনা দরকার এই ঘটনার মূল দুই মাথাকে—সুকান্ত কদম এবং চার্লি গাং। সুকান্ত কদম আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ঠাণ্ডা মাথার একজন মানুষ। কিন্তু এই শান্ত মাথার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক অপরাধী মস্তিষ্ক। সুকান্ত ছিল ...

ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি – চেটপট জুয়েলারি কেস।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। কেমন হবে যদি আপনি জানতে পারেন সিনেমার পর্দায় আমরা যে নিখুঁত এবং অবিশ্বাস্য ডাকাতির দৃশ্যগুলো দেখি তা আসলে বাস্তব জীবনেও ঘটে।যেখানে কোনো রক্তপাত হয় না কোনো গুলির আওয়াজ হয় না অথচ চোখের পলকে কোটি কোটি টাকার সোনা আর হিরে হাওয়া হয়ে যায়। হ্যাঁ, আজ আমরা কথা বলছি ভারতের অপরাধ ইতিহাসের অন্যতম এক দুঃসাহসিক এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা নিয়ে—'চেটপট জুয়েলারি ডাকাতি'। চেন্নাইয়ের একটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং অভিজাত এলাকা হলো চেটপট। দিনটি আর পাঁচটা দিনের মতোই সাধারণ ছিল। রাস্তাঘাটে চেনা ব্যস্ততা, দোকানপাটে ক্রেতাদের আনাগোনা। কেউ ভাবতেও পারেনি যে এই ব্যস্ততার আড়ালে একদল অপরাধী এমন এক নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট বা পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে যা পুরো দেশের পুলিশ প্রশাসনকে নাড়িয়ে দেবে। আজকের এই ব্লগে আমরা একদম গোড়া থেকে জানবো—কীভাবে এই ডাকাতির ছক কষা হয়েছিল। কারা ছিল এর মাস্টারমাইন্ড। কীভাবে তারা নিরাপত্তার সমস্ত স্তরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভেতরে ঢুকল।এবং সবচেয়ে বড় কথা, পুলিশ কীভাবে এক অদৃশ্য সুতোর খেই ধরে এই অপরাধীদের ডেরায় পৌঁছাল। শেষ পর্যন্ত ব্লগটি পড়ুন কারণ এই বাস্তব ঘটনার মোড় যেকো...

লুধিয়ানা ব্যাংক ডাকাতি ভারতের ইতিহাসের এক রোমহর্ষক ও রহস্যময় অধ্যায় ।

ছবি
১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭। ঘড়িতে তখন সকাল ঠিক ৯টা ৪৫ মিনিট। পাঞ্জাবের লুধিয়ানার শিল্পনগরী সবেমাত্র জেগে উঠছে। শীতের সকালের কুয়াশা কেটে চারপাশটা তখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। ঠিক এই সময়ে লুধিয়ানার মিলার গঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান শাখায় প্রতিদিনের মতোই সাধারণ মানুষ এবং ব্যাংক কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। কেউ জানতেন না আর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই ব্যাংকের ভেতরে এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা শুধু পাঞ্জাব বা ভারতকে নয় পুরো বিশ্বকে চমকে দেবে। এটি কোনো সাধারণ চুরি বা পকেটমারি ছিল না। এটি ছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক ডাকাতি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কোনো রকম রক্তপাত না ঘটিয়ে একটিও গুলি না চালিয়ে একদল সশস্ত্র মানুষ ব্যাংক থেকে গায়েব করে দিয়েছিল ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। ১৯৮৭ সালের হিসেবে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার সমান। কিন্তু কারা ছিল এই মাস্টারমাইন্ড। কীভাবে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে তারা এই অবিশ্বাস্য অপারেশন সফল করেছিল। আর কেনই বা এই ডাকাতির পেছনে লুকিয়ে ছিল ভারতের একটি বড় রাজনৈতিক এবং বিচ্ছিন্নতাবা...

মুম্বাইয়ের অপেরা হাউস সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ক্যাম!

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা তো অনেক ধরণের ব্যাংক ডাকাতির কথা শুনেছেন। হলিউড বা বলিউডের সিনেমায় দেখা যায়—একদল সশস্ত্র ডাকাত মুখে মুখোশ পরে হাতে বন্দুক নিয়ে ব্যাংকে ঢুকলো চিৎকার করে সবাইকে হাত ওপরে তুলতে বললো তারপর লকার ভেঙে কোটি কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিল। চারদিকে সাইরেন বাজছে পুলিশ তাড়া করছে দেখতে বেশ থ্রিলিং লাগে তাই না? কিন্তু আজ আমি আপনাদের এমন এক ব্যাংক ডাকাতির গল্প শোনাবো যেখানে কোনো বন্দুক চলেনি কোনো মারামারি হয়নি এমনকি একটা চিৎকার পর্যন্ত কেউ করেনি অথচ ডাকাত দল ভরদুপুরে সবার চোখের সামনে দিয়ে কোটি কোটি টাকার সোনা আর নগদ টাকা নিয়ে হেঁটে বেরিয়ে গেল। আর সবচেয়ে মজার বিষয় কী জানেন?  ব্যাংক ম্যানেজার নিজে হেসিমুখে সেই ডাকাতদের গাড়ির দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং বিদায় জানানোর সময় বলেছিলেন—থ্যাংক ইউ স্যার, আবার আসবেন হ্যাঁ আপনারা ঠিকই শুনছেন। আমি কথা বলছি ১৯৮৭ সালের ১৯শে মার্চের সেই বিখ্যাত অপেরা হাউস সেন্ট্রাল ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে। ভারতের ক্রাইম হিস্ট্রিতে এটিকে বলা হয় সবচেয়ে সোফিস্টিকেটেড বা চতুর অপরাধ। যে ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বলিউডে অক্ষয় কুমারের বিখ্যাত সিনেমা স্পেশাল ২৬...

চম্বলের আসল গাব্বার সিং এবং ১৯৫০-এর দশকের সন্ত্রাস।

ছবি
আরে ও সাম্বা! কিতনে আদমি থে?" — ১৯৭৫ সালের 'শোলে' সিনেমার এই সংলাপ শোনেননি, এমন ভারতীয় খুঁজে পাওয়া দায়। সিনেমার গাব্বার সিংকে আমরা সবাই চিনি। কিন্তু আপনারা কি জানেন সেলুলয়েডের এই কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক রক্তমাংসের বাস্তব মানুষ? যার ভয়ে ১৯৫০-এর দশকে কেঁপে উঠেছিল গোটা চম্বল উপত্যকা মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল? হ্যাঁ আজ আমরা কথা বলছি আসল গাব্বার সিং গুজ্জারকে নিয়ে। সিনেমার গাব্বারের চেয়েও বাস্তবের গাব্বার ছিল বহুগুণ বেশি ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর এবং কুখ্যাত। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে ১৯৫০-এর দশকে সে চম্বলের বুকে যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল  তার গল্প যেকোনো থ্রিলারের চেয়েও রোমহর্ষক। চলুন আজ ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায়ে ফিরে যাওয়া যাক। গাব্বার সিংয়ের জন্ম হয়েছিল ১৯২৬ সালে, মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলার এক সাধারণ গুজ্জার পরিবারে। ছোটবেলায় সে কিন্তু জন্মগত অপরাধী ছিল না। তবে চম্বলের মাটি আর সেখানকার বাতাস বরাবরই কিছুটা বিদ্রোহী। ১৯৫০ সালের দিকে মাত্র ২৪-২৫ বছর বয়সে গাব্বার সিং অপরাধের দুনিয়ায় পা রাখে। শোনা যায়, কোনো এক পারিবারিক বা জমিজম...

বোম্বাইয়ের প্রথম ‘স্টাইলিশ’ ডন রুস্তম মোদী ও ১৯৬০-এর কাঁপানো ডাকাতি।

ছবি
আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগের কথা। বোম্বাই তখন আজকের মতো এত ব্যস্ত বা বহুতল ভবনে ঢাকা ছিল না। কিন্তু আরব সাগরের তীরের এই শহরে তখন তৈরি হচ্ছিল এক নতুন আন্ডারওয়ার্ল্ড। আমরা অনেকেই হাজি মাস্তান, বরদারাজন বা করিম লালার নাম শুনেছি। কিন্তু আপনি কি জানেন এই সব ডনদের উত্থানের আগে ১৯৬০-এর দশকে বোম্বাই পুলিশকে যিনি একাই নাকানিচুবানি খাইয়েছিলেন তিনি কে ছিলেন? তিনি কোনো বস্তি থেকে উঠে আসা সাধারণ পকেটমার ছিলেন না। তিনি ছিলেন সুশিক্ষিত মার্জিত পোশাক পরিহিত এবং পার্সি পরিবারের একজন সন্তান। তাঁর নাম—রুস্তম সোহরাব মোদী। আর তাঁর দলবলকে শহর চিনত "রুস্তম গ্যাং" নামে। আজকের ব্লগে আমরা এমন এক অপরাধীর গল্প শুনব যে তৎকালীন বোম্বাইয়ের ব্যাংকার ব্যবসায়ী এবং পুলিশ কমিশনারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। এটি কেবল কিছু চুরির গল্প নয় এটি হলো নিখুঁত পরিকল্পনা স্টাইল এবং বিশ্বাসঘাতকতার এক রোমাঞ্চকর দলিল। রুস্তম সোহরাব মোদী। অপরাধ জগতের আর পাঁচটা গ্যাংস্টারের সাথে তাঁর আকাশ-পাতাল তফাত ছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন সবসময় দামি স্যুট পরতেন চমৎকার ইংরেজি বলতেন এবং তাঁর চালচলন ছিল একদম রাজকীয়। সাধারণ মানুষ তা...

চম্বলের বাগী মানসিং ও মোহর সিংয়ের ত্রাসের দুই দশক (১৯৫০-১৯৭০)।

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ফিরে যাব ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়ে, যেখানে আইনের শাসন আর প্রকৃতির নির্মমতা মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। ভারতের মানচিত্রের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একটি অঞ্চল—চম্বল।মধ্যপ্রদেশ রাজস্থান আর উত্তরপ্রদেশের সীমানা ছুঁয়ে যাওয়া এই চম্বল নদীর উপত্যকা শুধু তার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত নয় এটি পরিচিত ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং রোমাঞ্চকর ডাকাত বা 'বাগী'দের উপাখ্যানের জন্য। সাধারণ মানুষের কাছে তারা ছিল ডাকাত কিন্তু চম্বলের গিরিখাতের গভীরে তারা নিজেদের বলত বাগী—অর্থাৎ বিদ্রোহী। আজ আমরা আলোচনা করব ১৯৫০ থেকে ১৯৭০—এই দুই দশকের এমন দুজন মানুষকে নিয়ে যাদের নামে চম্বলের বাতাস কেঁপে উঠত। একজন হলেন বাগী ঠাকুর মানসিং, আর অন্যজন দস্যু মোহর সিং। এই ব্লগে আমরা জানব কীভাবে চম্বলের বিহাইন্ড বা গিরিখাতগুলো হয়ে উঠেছিল অপরাধের রাজধানী, এবং কীভাবে এই দুই সর্দার পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। মানসিং বা মোহর সিংয়ের গল্প বোঝার আগে চম্বলকে বোঝা জরুরি। চম্বল নদী হাজার বছর ধরে মাটি কেটে এমন এক গোলকধাঁধা তৈরি করেছে, যাকে বলা হয় 'বিহাইন্ড' বা Ravines। মাইলের পর মাইল জ...

কলকাতার ধারাবাহিক ব্যাংক ও পোস্ট অফিস ডাকাতি – এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

ছবি
নমস্কার। কলকাতা—যাকে আমরা 'সিটি অফ জয়' বা আনন্দের শহর বলে জানি। যে শহর তার সংস্কৃতি আড্ডা আর শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। কিন্তু আজ থেকে কয়েক দশক আগে, এই শান্ত শহরের বুকেই দানা বেঁধেছিল এক চরম অশান্তি। একের পর এক ব্যাংক আর পোস্ট অফিসে হতে শুরু করেছিল দুর্ধর্ষ সব ডাকাতি। দিনদুপুরে, ব্যস্ততম রাস্তায়, খোদ পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠ হয়ে যাচ্ছিল। এটা কোনো সিনেমার গল্প নয় এটা আমাদের এই কলকাতারই এক অন্ধকার অধ্যায়। আজকের ব্লগে আমরা ফিরে যাব সেই সময়ে যখন কলকাতার ব্যাংক আর পোস্ট অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল এবং লালবাজারের গোয়েন্দাদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। কোনো অপরাধই হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়ে না তার পেছনে থাকে একটা নির্দিষ্ট সময়কাল এবং সামাজিক পটভূমি। ৭০, ৮০ বা ৯০-এর দশকের কলকাতার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত জটিল। বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: তৎকালীন সময়ে যুবসমাজের একাংশের মধ্যে তীব্র হতাশা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। অস্ত্রের সহজলভ্যতা: সীমান্ত পেরিয়ে বা ভিন রাজ্য থেকে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের শহরে প্রবেশ ঘটেছিল। ডিজিটাল...

রক্তের শপথ: ব্রিটিশ ভারত ও থাগি অবসান | দ্য ট্রু স্টোরি অফ থাগস(thuggee)।

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ইতিহাসের এমন এক অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, যা শুনলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। কল্পনা করুন, আপনি ১৮২০ বা ১৮৩০ সালের ভারতের একজন ব্যবসায়ী। নিজের দলবল, ঘোড়া আর মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাচ্ছেন। পথ দীর্ঘ এবং বিপজ্জনক। হঠাৎ মাঝপথে আপনাদের সাথে দেখা হয়ে গেল একদল অমায়িক, ভদ্র পথচারীর। তারা আপনারই মতো তীর্থযাত্রী বা ব্যবসায়ী। তারা আপনার সাথে গল্প জুড়ে দিল, আপনার সুখ-দুঃখের ভাগীদার হলো। কয়েকদিন একসাথে চলার পর আপনার মনে হলো, এরা তো পর নয়, পরম বন্ধু! তারপর একদিন সূর্যাস্ত হলো। কোনো এক নির্জন নদীর তীরে বা ঘন জঙ্গলের ধারে আপনারা সবাই মিলে রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ সেই বন্ধুদের মধ্য থেকে একজন আকাশে তাকিয়ে অদ্ভুত এক পাখির ডাক ডেকে উঠল— অথবা চিৎকার করে বলে উঠল, "পান আনো!" আর মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল দৃশ্যপট। আপনার সেই পরম বন্ধুরা পকেট থেকে বের করল একটি হলুদ বা কাপড়ের টুকরো। সেকেন্ডের মধ্যে তা পেঁচিয়ে ধরল আপনার এবং আপনার সঙ্গীদের গলায়। কোনো তরবারি চলল না, কোনো পিস্তলের আওয়াজ হলো না। মাত্র কয়েক মিনিটে নিঃশব্দে শেষ হয়ে গেল পুরো একটি দ...

মানিকতলা ও মুরারিপুকুর বোমা মামলা।

ছবি
উপস্থিত শ্রদ্ধেয় মণ্ডলী এবং আমার প্রিয় দেশবাসী, আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, এই বাংলার আকাশ-বাতাস এক অদ্ভুত গুমোট অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এদেশের মানুষের বুকে যে ক্ষত তৈরি করেছিল, তা কেবল ক্ষোভের আগুন জ্বালায়নি, জন্ম দিয়েছিল এক নতুন যুগের—অগ্নিযুগ। আজ আমি আপনাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাব ১৯০৮ সালের মে মাসের এক কালজয়ী ইতিহাসে। যে ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতার এক বাগানবাড়ি—মুরারিপুকুর বাগানবাড়ি, আর যে মামলাটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তার নাম মানিকতলা বা মুরারিপুকুর বোমা মামলা। তখনকার দিনে একটা কথা প্রচলিত ছিল—"ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না।" কিন্তু বাংলার একদল তরুণ, যাঁদের চোখে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন আর বুকে ছিল মৃত্যুকে জয় করার অদম্য সাহস, তাঁরা ঘোষণা করলেন—ঐ অন্যায়ের সূর্যকে আমরা রক্তিম সন্ধ্যায় ডুবিয়ে দেব। তাঁরা অহিংসার দীর্ঘ পথ ছেড়ে, 'চোখের বদলে চোখ' এবং 'রক্তের বদলে রক্ত' নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন। প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন এই সশস্ত্র বিপ্লবের প্রয়োজন হলো? ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন যখন বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত ...

রড্ডা কোম্পানির অস্ত্র চুরি (১৯১৪)

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, ১৯১৪ সালের ২৬শে আগস্ট। কলকাতার ডালহৌসি স্কোয়ারের দুপুর। চারপাশ আপাতশান্ত, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ফুটছে এক চরম অশান্তি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল, যাকে ব্রিটিশ পুলিশ পরবর্তীতে বলেছিল "The greatest event in the history of revolutionary movement" বা বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা। আমরা আজ কথা বলছি রড্ডা কোম্পানির অস্ত্র চুরি নিয়ে। এটি কোনো সাধারণ চুরি ছিল না। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের গালে এক সপাটে চড়, এবং সশস্ত্র বিপ্লবের ইতিহাসে এক মাস্টারস্ট্রোক। একটু পেছনের গল্পে যাওয়া যাক। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর বাংলার যুবসমাজ বুঝে গিয়েছিল, শুধু আবেদন-নিবেদনে স্বাধীনতা আসবে না। লাঠির বদলে চাই বুলেট, আর কথার বদলে চাই বারুদ। যুগান্তর দল, অনুশীলন সমিতির বিপ্লবীরা মরিয়া হয়ে অস্ত্র খুঁজছিলেন। কিন্তু অস্ত্র আসবে কোথা থেকে? ঠিক তখনই বিপ্লবীদের নজরে পড়ল কলকাতার বিখ্যাত বন্দুক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান— 'রড্ডা অ্যান্ড কোম্পানি'। রড্ডা কোম্পানি বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র...

মাস্টারদা এবং চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহের মহাকাব্য।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগে, অবিভক্ত বাংলার একটি ছোট্ট জেলা শহর কেঁপে উঠেছিল এমন এক হুঙ্কারে, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। আজ আমরা ফিরে যাব ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিলের সেই রক্তঝরা রাতে। যখন মুষ্টিমেয় কিছু তরুণ, পকেটে সামান্য কিছু টাকা আর বুকে হিমালয়সমান সাহস নিয়ে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। আজ আমরা কথা বলব চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন এবং মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন-এর অপরাজেয় বীরত্বের গল্প নিয়ে। একটু ভাবুন তো, ১৯৩০ সালের ভারতের প্রেক্ষাপট কেমন ছিল? চারদিকে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন চলছে। কিন্তু বাংলার একদল তরুণ তখন বুঝতে পেরেছিলেন, শুধু অনুরোধ আর আবেদনে এই অহঙ্কারী ব্রিটিশরা এদেশ ছাড়বে না। রক্ত দিতে হবে, রক্ত নিতে হবে। আর এই ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন চট্টগ্রামের এক সাধারণ স্কুলের শিক্ষক—সূর্যকুমার সেন, যাকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে ডাকি 'মাস্টারদা'। তিনি দেখতে কেমন ছিলেন? কোনো বিশাল দেহী পুরুষ নন, সাধারণ ধুতি-পাঞ্জাবি পরা, মৃদুভাষী একজন মানুষ। কিন্তু তাঁর চোখের দিকে তাকালে দেখা যেত স্বাধীনতার এক জ্ব...

১৯২৫ সালের কাকোরি ট্রেন ডাকাতি কেনো হয়েছিল।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ থেকে ঠিক ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে, ১৯২৫ সালের ৯ই আগস্ট। ঘড়িতে তখন রাত প্রায় ৮টা বেজে বেজে ৪৫ মিনিট। লখনউ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে কাকোরি নামের একটি ছোট্ট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে হুড়মুড় করে এগিয়ে চলেছে ৮-ডাউন সাহারানপুর-লখনউ প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। আচমকাই ট্রেনের ভেতরে বসে থাকা এক যুবক ট্রেনের জরুরি চেইনটি টেনে দিলেন। সজোরে ব্রেক কষার শব্দে কেঁপে উঠল পুরো ট্রেনটি। ইঞ্জিনের চাকা থেকে আগুনের ফুলকি ছুটে এল। ট্রেনটি থামতেই অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে এলেন কয়েকজন তরুণ। তাঁদের চোখে মুখে ভয়ের কোনো চিহ্ন নেই, বরং জ্বলছে এক অদ্ভুত বিপ্লবের আগুন। তাঁদের হাতে জার্মানির তৈরি মাউজার পিস্তল। তাঁরা কোনো সাধারণ চোর বা ডাকাত ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা একদল অগ্নিযুগের বিপ্লবী। হ্যাঁ বন্ধুরা, আজ আমরা কথা বলছি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—'কাকোরি ট্রেন ডাকাতি' বা 'কাকোরি ট্রেন অ্যাকশন' সম্পর্কে। কীভাবে মাত্র ১০ জন তরুণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন? কেন ত...