পোস্টগুলি

project লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ফারাক্কা বাঁধ প্রজেক্ট ইতিহাস, উদ্দেশ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব।

ছবি
নমস্কার। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। নদী—মানব সভ্যতার জীবনরেখা। কিন্তু যখন এই নদী একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কেবল প্রকৃতির অংশ থাকে না তা হয়ে ওঠে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ। আজ আমরা এমন একটি নদী প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলব, যা গত কয়েক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার, বিশেষ করে ভারত এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও পরিবেশের অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি ফারাক্কা বাঁধ প্রজেক্ট সম্পর্কে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধটি কেন তৈরি করা হয়েছিল? এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? আর এটি নির্মাণের পর গত ৫০ বছরে এর কী কী প্রভাব পড়েছে? আজ আমরা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়া, সম্পূর্ণ তথ্য ও ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এই পুরো বিষয়টি সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করব। ফারাক্কা বাঁধের গল্পটা বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে, অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে ফিরে যেতে হবে। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ প্রকৌশলীরা লক্ষ্য করেন যে গঙ্গা নদীর মূল স্রোতটি ধীরে ধীরে তার দিক পরিবর্তন করছে। গঙ্গার প্রধান ধারাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে হ...

থুম্বা রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অবিশ্বাস্য ইতিহাস।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা, আজ আমরা এমন এক রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প শুনবো যা শুরু হয়েছিল একটি ছোট মাছ ধরার গ্রাম থেকে আর আজ তা পৌঁছে গেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এবং মঙ্গলের কক্ষপথে। হ্যাঁ, আমি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ইসরো'-র সাফল্যের কথা বলছি। কিন্তু আপনারা কি জানেন ভারতের এই মহাজাগতিক স্বপ্নের ভিত কোথায় এবং কীভাবে পোতা হয়েছিল? আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কাছে 'থুম্বা' নামের এক ছোট্ট নিভৃত গ্রামে ভারতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। যার পোশাকি নাম— "থুম্বা ইকুয়েটোরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন" বা সংক্ষেপে TERLS । কোনো অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি নয় একটা সেন্ট মেরি ম্যাগডালিন চার্চের ভেতরে বসে বিজ্ঞানীরা টেবিল-চেয়ার পেতে কাজ শুরু করেছিলেন। রকেটের অংশ আনা হতো সাইকেলে আর গরুর গাড়িতে করে । আজকের ব্লগে আমরা থুম্বা রকেট উৎক্ষেপণ প্রজেক্টের সেই অবিশ্বাস্য ইতিহাস বিজ্ঞানীদের ত্যাগ এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণার আঁতুড়ঘরের সম্পূর্ণ কাহিনী বিস্তারিত জানবো। শেষ পর্যন্ত পড়ুন । সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ভারতের এত বড় জায়গা থাকতে হঠাৎ কেরালার এক প্রান্তের মাছ ধরার গ...

রমগঙ্গা প্রকল্প ভারতের এক জলপ্রকৌশল বিস্ময়।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা।আজকের ভিডিওতে আমরা ভারতের এমন একটি প্রকৌশলগত বিস্ময় এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার এক অনন্য নিদর্শন নিয়ে কথা বলব যা উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি রামগঙ্গা বহুমুখী নদী উপত্যকা প্রকল্প সম্পর্কে। গঙ্গা নদীর অন্যতম প্রধান উপনদী হলো রামগঙ্গা। হিমালয়ের কুমাওন পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে এই নদী যখন সমভূমির দিকে ধেয়ে আসে তখন বর্ষাকালে এর রূপ হয়ে ওঠে ভয়ংকর। একসময় এই নদী উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যার তাণ্ডব চালাত আবার খরা মরসুমে জলের অভাবে হাহাকার পড়ে যেত চাষের জমিতে। এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ,সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের এক যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে জন্ম নেয় ‘রামগঙ্গা প্রকল্প’। আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত জানব এই প্রকল্পের ইতিহাস এর ভৌগোলিক অবস্থান প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য, এবং কীভাবে এটি ভারতের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। চলুন, শুরু করা যাক। প্রকল্পটি সম্পর্কে গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের রামগঙ্গা নদীটিকে একটু চিনে নেওয়া দরকার। উত্তরাখণ্ডের পৌরি গাড়ওয়াল জেলার দুধাতোলি পাহাড়ের প্রায় ২,৮১০ মিটার উচ্চতা থেকে এই ন...

কী ভাবে তৈরি ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ - আধুনিক ভারতের মন্দির ।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা । আজ আমরা এমন একটি স্থাপত্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় নিয়ে কথা বলব যাকে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু "আধুনিক ভারতের মন্দির" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। হ্যাঁ আমি কথা বলছি 'ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ' সম্পর্কে। এটি কেবল কংক্রিটের একটি বিশাল দেয়াল নয় এটি স্বাধীন ভারতের আত্মনির্ভরতা এবং শক্তির প্রতীক। যখন ভারত স্বাধীন হয়েছিল তখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্য ও বিদ্যুতের অভাব। সেই অন্ধকার সময়ে এই প্রজেক্টটি ভারতের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। আজকের ভিডিওতে আমরা জানব কীভাবে শতদ্রু নদীর হিংস্র স্রোতকে আটকে এই বিশাল বাঁধ তৈরি করা হলো এর পেছনের ইতিহাস কী এবং এটি কীভাবে পাঞ্জাব হরিয়ানা ও রাজস্থানকে ভারতের শস্যভাণ্ডারে পরিণত করল। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন কারণ এর নির্মাণকাজের রোমাঞ্চকর ইতিহাস আপনাকে অবাক করবে। মূল ইতিহাসে যাওয়ার আগে চলুন জেনে নিই এই প্রজেক্টটি ঠিক কোথায় অবস্থিত। অনেকেই মনে করেন ভাকরা এবং নাঙ্গাল একই বাঁধ কিন্তু আসলে এটি একটি মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের অধীনে তৈরি দুটি আলাদা বাঁধ।  ভাকরা বাঁধ: এটি হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর জেলায় শতদ্রু ব...

বিয়াস প্রজেক্ট (BEAS) কী।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা।আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, ভারতের পাঞ্জাব হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলোর সবুজ শস্যক্ষেত যেখানে আজ কোটি কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলো একসময় কতটা শুষ্ক ছিল।ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের এই বিশাল পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একটি অলৌকিক প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল। হ্যাঁ, আজ আমরা কথা বলছি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা— বিয়াস প্রজেক্ট সম্পর্কে। সিন্ধু নদ অববাহিকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই বিয়াস বা বিপাশা নদী। এই নদীর জলকে নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে তিনটি রাজ্যের ভাগ্য বদলে দেওয়া হয়েছিল  কীভাবে মরুভূমিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল জল আর কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ— আজ এই ব্লগে আমরা বিয়াস প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইতিহাস এবং এর ভেতরের গল্প বিস্তারিত জানবো। ব্লগ টি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইলো কারণ আজকের ব্লগ টি তথ্য এবং জ্ঞানে ভরপুর হতে চলেছে। বন্ধুরা, এই প্রজেক্টের গুরুত্ব বুঝতে হলে আমাদের একটু ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হয় তখন সিন্ধু ...

১৯ শতকে ভারতের যোগাযোগ ও আবাস প্রকল্প কেমন ছিল।

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ফিরে যাবো এমন এক শতাব্দীতে যা আমাদের চেনা ভারতকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ১৯ শতক—অর্থাৎ ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল। এই ১০০ বছরে ভারতের বুকে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটেছিল যা আজকের আধুনিক ভারতের মেরুদণ্ড। একবার ভাবুন তো ১৮০০ সালের শুরুর দিকের ভারতের কথা। এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে সময় লাগত weeks বা সপ্তাহ ।যাতায়াতের মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি পালকি বা ঘোড়া। রাস্তাঘাট বলতে ছিল কাঁচা মাটির পথ যা বর্ষায় কাদায় ডুবে যেত। চিঠিপত্র আদান-প্রদান ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই পুরো দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ ক্রাউন তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক শোষণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ভারতের যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনে। যাকে তারা বলেছিল "আধুনিকীকরণ" তা আসলে ছিল ভারতীয় সম্পদের দ্রুত নিষ্কাশন এবং নিয়ন্ত্রণের এক বিশাল নীল নকশা। আজ আমরা এই ব্লগে মাধ্যমে জানবো কীভাবে ১৯ শতকে ভারতের যোগাযোগ ও আবাস প্রকল্পের রূপান্তর ঘটেছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বললে ১৯ শতকের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ছিল রেলপথ...

১৯ শতকে ভারতে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো কেমন ছিল ?

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ফিরে যাবো ইতিহাসের এমন এক শতাব্দীতে যা আধুনিক ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। ১৯ শতক—অর্থাৎ ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল। এই সময়কালটি ভারতের ইতিহাসে কেবল রাজনৈতিক দাসত্ব বা অর্থনৈতিক শোষণের গল্প নয় এটি ছিল এক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের যুগ। একদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ ক্রাউন তাদের ঔপনিবেশিক স্বার্থে ভারতকে ব্যবহার করছিল। অন্যদিকে এই প্রয়োজনেই ভারতে প্রবেশ করছিল আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা উপাদান। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পরিকাঠামো কি কেবলই ব্রিটিশদের উপকারের জন্য ছিল? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল আধুনিক ভারতের বৈজ্ঞানিক পুনর্জাগরণের বীজ? আজ আমরা আলোচনা করব কীভাবে ১৯ শতকে ভারতে গড়ে উঠেছিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। যেকোনো দেশ শাসন বা পরিচালনা করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন সেই দেশের ভূগোলকে জানা। ব্রিটিশরা এই কাজটি শুরু করেছিল অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে। ১৯ শতকের শুরুতে ১৮০২ সালে উইলিয়াম ল্যাম্বটন এবং পরবর্তীতে জর্জ এভারেস্টের নেতৃত্বে শুরু হয় 'গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভে' (Great Trigonometrical Survey)। এট...

ভারতের ভারী শিল্প এবং উৎপাদন খাত।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা, স্বাগতম আপনাদের আমাদের আজকের এই বিশেষ ব্লগে। আচ্ছা, আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আজ আমরা যে আধুনিক পৃথিবীতে বাস করছি—যেখানে আকাশচুম্বী ভবন রয়েছে, বিশাল বিশাল সেতু রয়েছে, প্রতিদিন রাস্তায় লাখ লাখ গাড়ি চলছে, আকাশে উড়োজাহাজ উড়ছে—এই সবকিছুর ভিত্তি কী? এর পেছনের আসল শক্তিটি কিন্তু আমাদের চোখের সামনে সরাসরি আসে না। আর সেই শক্তিটি হলো—"ভারী শিল্প এবং উৎপাদন খাত" বা Heavy Industry and Manufacturing Sector। অনেকেই মনে করেন বর্তমান যুগটা কেবল সফটওয়্যার বা আইটি খাতের। কিন্তু সত্যটা হলো, আইটি খাতের তৈরি সফটওয়্যার যে কম্পিউটারে চলে সেই কম্পিউটারও কিন্তু কোনো না কোনো উৎপাদন কারখানায় তৈরি হয়। ভারী শিল্প হলো যেকোনো দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আজ আমরা এই ব্লগের সফরে জানবো ভারী শিল্প আসলে কী, এটি কীভাবে কাজ করে, আমাদের জীবনে এর গুরুত্ব কতটা এবং এই খাতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে। আপনি যদি একজন ছাত্র হন ব্যবসায়ী হন কিংবা সাধারণ কোনো কৌতূহলী মানুষ—আজকের এই পোস্টে আপনার চিন্তাভাবনা বদলে দেবে। তাই একদম শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন। শুরুতেই সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক ভারী শ...

বহুমুখী নদী ও বাঁধ প্রকল্প।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা! মানব সভ্যতার ইতিহাস যদি আমরা দেখি, তবে দেখব সমস্ত বড় বড় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল কোনো না কোনো নদীর তীরে। নদী আমাদের জীবন, নদী আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু এই নদীই যখন বর্ষাকালে ভয়াবহ বন্যার রূপ নেয়, তখন সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। আবার খরা মরসুমে সেই নদীই শুকিয়ে হাহাকার তৈরি করে। নদীর এই রূপকে নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নিয়েছে 'বহুমুখী নদী উপত্যকা প্রকল্প' বা Multipurpose River Valley Project। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এই বাঁধগুলোকে বলেছিলেন 'আধুনিক ভারতের মন্দির' । কিন্তু কেন একে 'বহুমুখী' বলা হয়? একটা বাঁধ কি শুধুই জল আটকে রাখে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও অনেক রহস্য? আজকের এই ব্লগে আমরা অত্যন্ত সহজ ভাষায় জানব এই বহুমুখী নদী প্রকল্পের খুঁটিনাটি, এর সুবিধা, অসুবিধা এবং ভারতের কিছু বিখ্যাত বাঁধের গল্প। চলুন শুরু করা যাক সবার আগে বোঝা দরকার, একে আমরা 'বহুমুখী' কেন বলছি। সাধারণ একটি বাঁধ হয়তো শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি হতে পারে। কিন্তু যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট নদীকে কেন্দ্র কর...

ব্রিটিশ ভারত ও জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (১৮৫১)।

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়ে ফিরে যাব যা ভারতের মাটির নিচের রহস্য উন্মোচন করেছিল। আজ আমরা কথা বলব জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI)-এর প্রতিষ্ঠা এবং এর পেছনের ব্রিটিশ উপনিবেশিক স্বার্থ ও বৈজ্ঞানিক অভিযান নিয়ে। সালটা ১৮৫১ আজ থেকে পৌনে দুইশত বছর আগে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বুকে এমন এক প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেয়, যা আজ বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ভূবৈজ্ঞানিক সংস্থা। কিন্তু কেন তারা এটা করেছিল? শুধু বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা থেকে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে ছিল অন্য কোনো বড় উদ্দেশ্য? ১৮ শতকের শেষের দিকে এবং ১৯ শতকের শুরুতে ব্রিটেনে তখন শিল্প বিপ্লব বা Industrial Revolution তুঙ্গে। আর এই শিল্প বিপ্লবের চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটার প্রয়োজন ছিল, তা হলো কয়লা (Coal)। ইংল্যান্ডের বুক চিরে তখন তৈরি হচ্ছে রেললাইন, চাকা ঘুরছে স্টিম ইঞ্জিনের। আর এই বিপুল পরিমাণ কয়লার সন্ধানেই ব্রিটিশদের নজর পড়ে তাদের সবচেয়ে বড় উপনিবেশ—ভারতের ওপর। ভারতে কয়লা অনুসন্ধানের কাজ অবশ্য ১৮৫১ সালের আগেই শুরু হয়েছিল। ১৮৩৬ সালে ব্রিটিশ সরকার একটি ‘কোল কমিটি’ বা কয়লা কমিটি গঠন করে। কিন্তু এল...

​দ্য গ্রেট ত্রিকোণমিতিক জরিপ: উপমহাদেশের মানচিত্রায়নের মহাকাব্য।

ছবি
নমস্কার। আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে, যখন স্যাটেলাইট ছিল না, গুগল ম্যাপ ছিল না, এমনকি নিখুঁতভাবে দূরত্ব মাপার মতো আধুনিক কোনো যন্ত্রও ছিল না—তখন একদল মানুষ একটি অবিশ্বাস্য স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশকে ইঞ্চি ইঞ্চি করে মেপে তার একটি নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করতে। বিজ্ঞান, অদম্য ইচ্ছা আর চরম আত্মত্যাগের সেই মহাকাব্যিক অভিযানের নাম—The Great Trigonometrical Survey বা মহতী ত্রিকোণমিতিক জরিপ। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বিশাল ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পায়। কিন্তু শাসন করতে গেলে, রাজস্ব আদায় করতে গেলে আর সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে গেলে সবার আগে যা প্রয়োজন, তা হলো একটি নিখুঁত মানচিত্র। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি বুঝতে পেরেছিলেন, তরবারি দিয়ে দেশ জয় করা গেলেও, বিজ্ঞান ছাড়া তা ধরে রাখা অসম্ভব। আর এই চিন্তা থেকেই ১৮০২ সালের ১০ এপ্রিল, মাদরাসের (বর্তমান চেন্নাই) সেন্ট থমাস মাউন্ট থেকে শুরু হয় মানব ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ এবং নিখুঁত বৈজ্ঞানিক অভিযান। এই বিশাল যজ্ঞের মূল পরিকল্পনাকারী এবং প্রথম পরিচালক ছিলেন একজন ব্র...

১৮৪৭: ভারতের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ব্রিটিশদের আসল উদ্দেশ্য।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ আমরা সময়ের চাকা ঘুরিয়ে চলে যাব পৌনে দুইশত বছর পেছনে—১৮৪৭ সালে। আজ আমরা এমন এক প্রতিষ্ঠানের গল্প বলব, যা ভারতের আধুনিক প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার মেরুদণ্ড গড়ে দিয়েছিল। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি আইআইটি রুরকি (IIT Roorkee)-র ব্যাপারে। তবে ১৮৪৭ সালে যখন এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তখন এর নাম আইআইটি ছিল না। এর নাম ছিল টমাসন কলেজ অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (Thomason College of Civil Engineering)। এটি কেবল ভারতের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ব্রিটিশরা, যারা এ দেশে এসেছিল ব্যবসা করতে এবং পরবর্তীতে শাসন করতে, তারা কেন হঠাৎ করে ভারতে এত বড় একটা টেকনিক্যাল কলেজ তৈরি করতে গেল? তাদের উদ্দেশ্য কি শুধুই ভারতীয়দের শিক্ষিত করা ছিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে ছিল কোনো বিশাল সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ এবং মাস্টারপ্ল্যান? আজ আমরা এই ব্লগ ওপোস্টে এই রোমাঞ্চকর ইতিহাস বিস্তারিত আলোচনা করবো। ১৮৪৭ সালের এই প্রজেক্টটি বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। ১৮৩০ এবং ১৮৪০-এর দশকে উত্তর ভারতে, বিশেষ করে বর্তমান উত্তরপ্রদেশ অঞ্চলে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ...

১৮৫৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও ভারতের উচ্চশিক্ষা স্থাপনা।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। ১৮৫৭ সাল— এই বছরটির কথা শুনলেই আমাদের মাথায় প্রথমে কী আসে? নিশ্চিতভাবেই মহাবিদ্রোহ বা সিপাহী বিদ্রোহের কথা। মঙ্গল পাণ্ডে, ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ আর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতীয় সিপাহীদের গর্জে ওঠার ইতিহাস। কিন্তু আপনারা কি জানেন, ঠিক এই একই বছরে, যখন পুরো দেশ বারুদের গন্ধে ফুটছে, তখন পর্দার আড়ালে ভারতের মাটিতে এমন একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল, যা আগামী ১০০ বছরের ভারতের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। হ্যাঁ, আমি ১৮৫৭ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতের বুকে তিনটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলছি— কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বোম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়। আজকের ভিডিওতে আমরা ইতিহাসের সেই পাতায় ফিরে যাব। আমরা জানবো কেন ব্রিটিশরা হঠাৎ ভারতে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এত আগ্রহী হয়ে উঠল। এর পেছনে তাদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? এবং কীভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজকের আধুনিক ভারতের বুদ্ধিজীবী সমাজ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মেরুদণ্ড তৈরি করেছিল। পুরো গল্পটা জানতে ব্লগটি শেষ পর্যন্ত অবশ্যই পড়ুন। ১৮৫৭ সালের এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিন্তু হুট করে...

১৯১১ – নতুন রাজধানী স্থাপনের মহাকাব্যিক ইতিহাস।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, ১৯১১ সালের ১২ই ডিসেম্বর। দিল্লির তীব্র শীতের সকালে একটি ঘোষণা পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের ভাগ্য এবং ভূগোল চিরতরে বদলে দিয়েছিল। এমন একটি সিদ্ধান্ত যা তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় গোপন বিষয়গুলোর একটি ছিল। ঘোষণাটি করেছিলেন স্বয়ং ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ। তিনি ঘোষণা করেন—ভারতের রাজধানী আর প্রাসাদ নগরী কলকাতা থাকছে না তা স্থানান্তরিত হচ্ছে প্রাচীন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতে। ভাবুন তো, যে কলকাতা ছিল দেড়শ বছর ধরে ব্রিটিশ ভারতের প্রাণকেন্দ্র, যে শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল পুরো এশিয়ায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্য ও রাজনীতি এক নিমেষে সেই শহরের মুকুট কেড়ে নেওয়া হলো কিন্তু কেন? কেন ব্রিটিশরা তাদের সাধের কলকাতা ছেড়ে দিল্লির ধুলোবালির মধ্যে নতুন রাজধানী গড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? আজ আমরা ইতিহাসের সেই রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে ডুব দেব। এই রাজধানী পরিবর্তনের নেপথ্যে কোনো রাতারাতি নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না। এর পেছনে ছিল গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভয়। ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস যখন কলকাতাকে বাংলার তথা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ঘোষণা করেন, তখন পরিস্...

ব্রিটিশ আমলের আধুনিক সমুদ্র বন্দর ও ভারতের রূপান্তর।

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ফিরে যাব ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়ে, যা আধুনিক ভারতের অর্থনীতি, ভূগোল এবং শহরায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। আমরা যখন আজকের মুম্বাই, কলকাতা বা চেন্নাইয়ের মতো বিশাল মেগাসিটিগুলোর দিকে তাকাই, আমরা কী দেখি। আকাশচুম্বী অট্টালিকা, ব্যস্ত রাস্তা আর কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই শহরগুলোর আজকের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে শতবর্ষ পুরোনো কিছু সমুদ্র বন্দর। ১৭শ শতাব্দীতে যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের মাটিতে পা রাখে, তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য। আর বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি কী ছিল? জলপথ। কারণ সেই যুগে মহাসমুদ্রই ছিল পৃথিবীর একমাত্র হাইওয়ে। আজ আমরা আলোচনা করব কীভাবে ব্রিটিশরা ভারতের বুকে আধুনিক সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করেছিল, কীভাবে সেগুলো ভারতের প্রাচীন বাণিজ্যিক মানচিত্রকে বদলে দিয়েছিল এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল অর্থনীতিটা কী ছিল। ব্রিটিশরা আসার আগেও ভারতে বন্দর ছিল না, এমন নয়। প্রাচীনকাল থেকেই তামিলনাড়ুর পুহার, গুজরাটের সুরাট বা কেরালার কালিকট বন্দর বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। রোমান সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আরব বণিকেরা এখানে...