কম্পোস্টিং ১০০১: বাড়িতেই তৈরি করুন গাছের জন্য জৈবসার।
কম্পোস্টিং ১০০১: বাড়িতেই তৈরি করুন গাছের জন্য জৈবসার।
বাড়ির বাগানের গাছ হোক বা বারান্দার টব—গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং মাটির উর্বরতা বাড়াতে জৈব সারের বিকল্প নেই। বাজারের রাসায়নিক সারের ওপর ভরসা না করে আপনি খুব সহজেই বাড়িতে ফেলে দেওয়া রান্নাঘরের বর্জ্য দিয়ে তৈরি করতে পারেন চমৎকার জৈবসার, যা পরিচিত 'কম্পোস্টিং' নামে। এটি কেবল পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং সাশ্রয়ীও।
কম্পোস্টিং কী?
সহজ কথায়, জৈব পদার্থ (যেমন শাকসবজির খোসা, ফলের অবশিষ্টাংশ, শুকনো পাতা) প্রাকৃতিক উপায়ে পচে যে খনিজ সমৃদ্ধ মাটিতে পরিণত হয়, তাকেই কম্পোস্ট বলে। এটি গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং মাটির গঠন উন্নত করে।
কী কী উপকরণ লাগবে?
কম্পোস্টিংয়ের জন্য উপকরণের ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি। একে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সবুজ উপকরণ (নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ): শাকসবজির খোসা, ফলের টুকরো, চায়ের পাতা (দুধ-চিনি ছাড়া), কাঁচা ঘাস ইত্যাদি।
২. বাদামী উপকরণ (কার্বন সমৃদ্ধ): শুকনো পাতা, খড়, কাগজের টুকরো (খবরের কাগজ), কাঠের গুঁড়ো বা কার্ডবোর্ডের টুকরো।
কীভাবে শুরু করবেন?
পাত্র নির্বাচন: একটি বড় মাটির টব বা প্লাস্টিকের বালতি নিন। এর তলায় এবং চারপাশে ছোট ছোট ছিদ্র করে দিন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
স্তর সাজানো: পাত্রের নিচে প্রথমে কিছু ছোট ডালপালা বা শুকনো পাতা দিন। এরপর সবুজের পর বাদামী উপকরণের স্তর সাজান। অর্থাৎ, এক স্তর সবজির খোসা দিলে তার ওপর এক স্তর শুকনো পাতা বা কাগজের টুকরো দিন।
আর্দ্রতা: মিশ্রণটি যেন খুব বেশি শুকনো বা খুব বেশি ভেজা না থাকে। প্রয়োজনে সামান্য জল ছিটিয়ে দিন।
বাতাস চলাচল: সপ্তাহে অন্তত একবার একটি লাঠি দিয়ে মিশ্রণটি উল্টে-পাল্টে দিন। এতে পচন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা
রান্না করা খাবার, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, দুধ, মাংস বা মাছের কাঁটা কম্পোস্ট বিনে দেবেন না। এতে দুর্গন্ধ হতে পারে এবং পোকার উপদ্রব বাড়তে পারে।
পাত্রটি সরাসরি রোদে না রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা ভালো।
কখন ব্যবহার করবেন?
পরিবেশ ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আপনার জৈবসার প্রস্তুত হয়ে যাবে। যখন দেখবেন মিশ্রণটি দেখতে কালচে রঙের এবং ঝুরঝুরে মাটির মতো হয়ে গেছে, তখন বুঝবেন এটি ব্যবহারের জন্য তৈরি।
বাড়িতে তৈরি এই সার আপনার গাছের জন্য অমৃতস্বরূপ। এটি ব্যবহারে গাছের বৃদ্ধি যেমন দ্রুত হয়, তেমনি গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। আজই ছোট করে শুরু করুন আপনার নিজের সার তৈরির যাত্রা!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your valuable feedback or questions below comment Please let me know. Thank you.