রহস্যে ঘেরা 'ভয়নিচ পান্ডুলিপি': ৬০০ বছর ধরে অমীমাংসিত এক ধাঁধা।


রহস্যে ঘেরা 'ভয়নিচ পান্ডুলিপি': ৬০০ বছর ধরে অমীমাংসিত এক ধাঁধা।

ভাবুন তো এমন এক বইয়ের কথা, যার প্রতিটি পাতা উল্টালেই চোখে পড়বে অদ্ভুত সব উদ্ভিদের ছবি, মহাজাগতিক নক্ষত্রমণ্ডলীর নকশা আর নগ্ন নারীদের স্নানের অদ্ভুত চিত্র। অথচ, বইটিতে কী লেখা আছে তা পৃথিবীর বড় বড় ক্রিপ্টোগ্রাফার, কোডব্রেকার বা ভাষাবিদ কেউই আজ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেননি! আমরা কথা বলছি পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় বই ‘দ্যা ভয়নিচ পান্ডুলিপি’ (The Voynich Manuscript) নিয়ে।

ইতিহাস ও উৎস।
কার্বন ডেটিং প্রযুক্তির সাহায্যে জানা গেছে, এই পান্ডুলিপিটি ১৪০৪ থেকে ১৪৩৮ সালের মধ্যে, অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগে ইউরোপে তৈরি হয়েছিল। ১৯১২ সালে উইলফ্রিড ভয়নিচ নামের এক পোলিশ-আমেরিকান বই বিক্রেতা ইতালির এক কলেজ থেকে এটি উদ্ধার করেন। তার নামানুসারেই এই বইটির নামকরণ করা হয়। বর্তমানে এটি আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটির ‘বিয়েনেকে রেয়ার বুক অ্যান্ড ম্যানুস্ক্রিপ্ট’ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

বইটির ভেতরের অদ্ভুত দুনিয়া।
প্রায় ২৪০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে ২৪০,০০০-এরও বেশি শব্দ রয়েছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, এর লিপি বা বর্ণমালা পৃথিবীর কোনো চেনা ভাষার সাথে মেলে না। বইয়ের চিত্রকর্মগুলোর ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা এটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন:

ভেষজ বা উদ্ভিদ বিজ্ঞান: এমন সব গাছপালার ছবি, যার অস্তিত্ব বাস্তবে নেই।

জ্যোতির্বিদ্যা: সূর্য, চাঁদ এবং রাশিচক্রের বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডলীর নকশা।

জৈবিক বা শরীরস্থান: রহস্যময় সব নলের সাহায্যে যুক্ত জলাধারে নারীদের স্নানের দৃশ্য।

ঔষধ বিজ্ঞান: বিভিন্ন গাছের মূল ও পাতার মিশ্রণ তৈরির বিবরণী।

কেন এটি আজও এক রহস্য?
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝানু কোডব্রেকার থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)—সবকিছুই ব্যর্থ হয়েছে এই বইয়ের ভাষা বুঝতে। কেউ কেউ মনে করেন এটি একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ভাষা, কেউ বলেন এটি কোনো প্রাচীন বিলুপ্ত ভাষা, আবার অনেকের মতে এটি একটি অত্যন্ত জটিল কোনো গোপন কোড (Cipher)। এমনকি একাংশের ধারণা, এটি স্রেফ একটি মধ্যযুগীয় প্রতারণা বা ভুয়া বই, যা কোনো ধনী ব্যক্তিকে ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে, লেখার চমৎকার শৈলী এবং ব্যাকরণগত ভারসাম্য দেখে একে পুরোপুরি ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ভয়নিচ পান্ডুলিপি কেবল একটি বই নয়, এটি মানব বুদ্ধিমত্তার সামনে ছুড়ে দেওয়া এক আদিম চ্যালেঞ্জ।"

শত চেষ্টা সত্ত্বেও আজ অব্দি বইটির একটি শব্দও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এটি কি কোনো প্রাচীন চিকিৎসকের গোপন ডায়েরি, কোনো জাদুকরের ফর্মুলা, নাকি ভিনগ্রহের কোনো বার্তা? রহস্যের এই কুয়াশা হয়তো কোনোদিন কাটবে, কিংবা হয়তো ভয়নিচ পান্ডুলিপি চিরকালই থেকে যাবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ধাঁধা হয়ে।

মন্তব্যসমূহ

WELCOME TO MORE POST

Rainbow Body বা রামধনু দেহ: তিব্বতের সন্ন্যাসীদের দেহ বিলীন হয়ে যাওয়ার অলৌকিক রহস্য।

আপনার Android ফোনকে নতুনের মতো ফাস্ট করার ৫ টি জাদুকরি ট্রিকস।

২০২৬ সালে আপনার ফোনে অবশ্যই থাকা উচিত এমন ১০ টি অসাধারণ Android App।

কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট: বিজ্ঞানের চোখে ভুতুড়ে দূরবর্তী একশন।

কেপলার-২২বি এবং মহাবিশ্বের রহস্যময় সংকেত: এলিয়েনরা কি সত্যিই আমাদের খুঁজছে?

Android ইকোসিস্টেম ২০২৬: নতুনদের জন্য একটি সহজ গাইড।

জিরো (zero wast) ওয়েস্ট জীবনযাপন : শুরুটি করবেন যে ভাবে ।

সবুজ জীবন গড়ার পথে : ইকো ফ্রেন্ডলি জীবনযাত্রার হাতেখড়ি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী জীবন: ছোটো ছোটো অভ্যাসে বড় পরিবর্তন।