Rainbow Body বা রামধনু দেহ: তিব্বতের সন্ন্যাসীদের দেহ বিলীন হয়ে যাওয়ার অলৌকিক রহস্য।
রেইনবো বডি (Rainbow Body) বা রামধনু দেহ:
তিব্বতের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের এক অলৌকিক ও রহস্যময় আধ্যাত্মিক পরিণতি। শত শত বছর ধরে তিব্বতের হিমালয় ঘেরা মঠগুলোতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে আসছে, যা আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রের সমস্ত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক তিব্বতের সন্ন্যাসীদের দেহ বিলীন হয়ে যাওয়ার এই অবিশ্বাস্য রহস্য সম্পর্কে।
রেনবো বডি কী?
তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের ‘জোগচেন’ (Dzogchen) সাধনায় বিশ্বাস করা হয় যে, একজন সাধক যখন ধ্যান ও আধ্যাত্মিকতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছান, তখন তিনি তাঁর স্থূল শরীরকে আলোর বিশুদ্ধ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারেন। মৃত্যুর সময়ে বা মৃত্যুর ঠিক পর মুহূর্তে তাঁদের নশ্বর দেহটি ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে এবং অবশেষে রামধনুর আলোয় মিলিয়ে যায়। এই অলৌকিক অবস্থাকেই বলা হয় ‘রেইনবো বডি’।
কীভাবে ঘটে এই অলৌকিক ঘটনা?
তিব্বতের ঐতিহ্য অনুসারে, যখন কোনো উচ্চস্তরের লামা বা সাধক এই পৃথিবীতে তাঁর শেষ সময় উপস্থিত হয়েছে বুঝতে পারেন, তখন তিনি নিজেকে একটি ঘরের মধ্যে বন্দি করে নেন। সাত দিন ধরে সেই ঘরের দরজা-জানলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
প্রথম কয়েক দিন: ঘর থেকে অদ্ভুত সুগন্ধ এবং স্বর্গীয় আলোর ছটা বের হতে দেখা যায়।
সপ্তম দিন: ঘর খোলার পর দেখা যায়, সাধকের পুরো শরীরটি গায়েব হয়ে গেছে। বিছানায় পড়ে থাকে কেবল তাঁর চুল এবং নখ—যা মানবদেহের সবচেয়ে অশুদ্ধ অংশ বলে মনে করা হয়।
ছোট হয়ে যাওয়া শরীর: অনেক সময় দেহটি পুরোপুরি বিলীন না হয়ে মাত্র কয়েক ইঞ্চির একটি শিশুর অবয়বে পরিণত হয়, যা আর কখনো পচে না।
বাস্তব নাকি রূপকথা?
পাশ্চাত্যের মানুষের কাছে এটি কাল্পনিক গল্প মনে হলেও, এর পেছনে বহু প্রত্যক্ষদর্শীর প্রমাণ রয়েছে। ১৯৯৮ সালে তিব্বতি সাধক কেনপো আচুন (Khenpo Achung)-এর দেহ বিলীন হওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মৃত্যুর পর তাঁর শরীর থেকে তীব্র আলো বের হতে দেখেন স্থানীয়রা এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর শরীর সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। ক্যাথলিক গবেষক ফাদার ফ্রান্সিস তিসো নিজে তিব্বতে গিয়ে এই ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান করেছিলেন।
আধ্যাত্মিক বনাম বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি।
আধুনিক বিজ্ঞান যেখানে ভর ও শক্তির রূপান্তরের সূত্র (E=mc^2) দিয়ে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে চায়, তিব্বতি লামাদের কাছে এটি হলো চিত্তের চরম শুদ্ধি। তাঁদের মতে, মন যখন সম্পূর্ণ মুক্ত এবং ব্রহ্মাণ্ডের সাথে একাত্ম হয়, তখন পরমাণুর বন্ধন ভেঙে তা আলোয় রূপান্তরিত হয়।
রেনবো বডি কেবল কোনো জাদুটোনা নয়, বরং এটি মানুষের ভেতরের অসীম আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার এক জীবন্ত প্রমাণ। বিজ্ঞান যেখানে থমকে দাঁড়ায়, তিব্বতের এই রহস্যময় সাধনা সেখান থেকেই যেন এক নতুন জগতের পথ দেখায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your valuable feedback or questions below comment Please let me know. Thank you.