জিরো (zero wast) ওয়েস্ট জীবনযাপন : শুরুটি করবেন যে ভাবে ।
জিরো ওয়েস্ট জীবনযাপন: টেকসই ভবিষ্যতের দিকে প্রথম পদক্ষেপ।
বর্তমান পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণ এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে 'জিরো ওয়েস্ট' বা শূন্য বর্জ্য জীবনযাপন কেবল একটি ট্রেন্ড নয় বরং এটি সময়ের দাবি। জিরো ওয়েস্ট মানে এই নয় যে আপনাকে রাতারাতি একদমই আবর্জনা তৈরি করা বন্ধ করে দিতে হবে বরং এর মূল লক্ষ্য হলো বর্জ্য উৎপাদন যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য অভ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়া।
নিচে জিরো ওয়েস্ট জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়ার কিছু সহজ ও কার্যকর ধাপ আলোচনা করা হলো :
১. 'রিফিউজ' বা প্রত্যাখ্যান করার অভ্যাস করুন।
জিরো ওয়েস্টের প্রথম ধাপ হলো অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার বর্জন করা। বাইরে খেতে গেলে প্লাস্টিকের স্ট্র চামচ বা ডিসপোজেবল কাপ নিতে অস্বীকার করুন। কেনাকাটার সময় অতিরিক্ত প্যাকেটজাত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন যা আপনি গ্রহণ করবেন না তা বর্জ্য হিসেবে তৈরিই হবে না।
২. কেনাকাটায় সচেতন হোন।
বাজার করার সময় নিজের কাপড়ের ব্যাগ সাথে রাখুন। প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করুন। সম্ভব হলে স্থানীয় বাজার থেকে খোলা পণ্য কিনুন এবং নিজের কাঁচের জার বা স্টিলের পাত্রে সেগুলো বহন করুন। এতে প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাবে।
৩. পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার।
আমাদের নিত্যদিনের অনেক জিনিসের বিকল্প হিসেবে স্থায়ী কিছু ব্যবহার করা যায়। যেমন—প্লাস্টিকের বোতলের বদলে স্টিলের বোতল ,কাগজের ন্যাপকিনের বদলে সুতির রুমাল, এবং ডিসপোজেবল রেজার বা টুথব্রাশের বদলে দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প বেছে নিন। এটি দীর্ঘমেয়াদে আপনার খরচও কমাবে।
৪. কম্পোস্টিং বা জৈব সার তৈরি।
আমাদের গৃহস্থালি বর্জ্যের একটি বিশাল অংশ হলো রান্নাঘরের পচনশীল আবর্জনা (যেমন—সবজির খোসা, ফলের অবশিষ্টাংশ)। এই বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সাথে না ফেলে একটি আলাদা পাত্রে জমিয়ে কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরি করুন। এটি আপনার ঘরের গাছ বা ছাদবাগানের জন্য চমৎকার পুষ্টি হিসেবে কাজ করবে।
৫. 'রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল'।
সবশেষে, এই তিনটি মন্ত্র মনে রাখুন: প্রয়োজন না থাকলে কিনবেন না (Reduce) কোনো জিনিস ফেলে দেওয়ার আগে সেটি অন্য কাজে ব্যবহার করা যায় কি না দেখুন (Reuse) এবং সবশেষে কাগজ বা কাঁচের মতো উপাদানগুলো পুনর্ব্যবহারের জন্য রিসাইকেল সেন্টারে পাঠান (Recycle)।
জিরো ওয়েস্ট জীবনযাপন একদিনে নিখুঁত হয় না। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছোট ছোট পরিবর্তনই একদিন বড় প্রভাব ফেলে। আজ থেকেই শুরু করুন আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোকে পরিমার্জন করার। প্রকৃতির প্রতি আমাদের এই সামান্য যত্নই পৃথিবীকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your valuable feedback or questions below comment Please let me know. Thank you.