টাইম ট্রাভেলার নাকি কাকতালীয়? ইতিহাসের ৫টি ঘটনা যা বিজ্ঞানকে চমকে দিয়েছে।
টাইম ট্রাভেলার নাকি কাকতালীয়? ইতিহাসের ৫টি ঘটনা যা বিজ্ঞানকে চমকে দিয়েছে।
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু অদ্ভুত ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে, যা যুক্তি বা বিজ্ঞান দিয়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। এগুলো কি স্রেফ কাকতালীয় ঘটনা, নাকি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে কোনো টাইম ট্রাভেলার বা সময় ভ্রমণকারীর হাত? আসুন জেনে নেওয়া যাক ইতিহাসের এমন ৫টি অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা আজও বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তোলে।
১. এডগার অ্যালান পো-র ভবিষ্যৎবাণী (১৮৩৮)।
বিখ্যাত লেখক এডগার অ্যালান পো ১৮৩৮ সালে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন, যেখানে একটি জাহাজডুবির পর ‘রিচার্ড পার্কার’ নামের এক নাবিককে বাকিরা বেঁচে থাকার তাগিদে খেয়ে ফেলে। অলৌকিক বিষয় হলো, এই উপন্যাস লেখার ঠিক ৪৬ বছর পর (১৮৮৪) বাস্তবে একটি জাহাজডুবি ঘটে। সেখানেও ঠিক একইভাবে বেঁচে যাওয়া তিন নাবিক একজনকে ক্ষুধার জ্বালায় খেয়ে ফেলে এবং সেই মৃত নাবিকের নামও ছিল রিচার্ড পার্কার!
২. টাইটানিকের ট্র্যাজেডি ও ‘ফুটিলিটি’ (১৮৯৮)।
টাইটানিক জাহাজটি ডুবেছিল ১৯১২ সালে। কিন্তু তার ঠিক ১৪ বছর আগে, ১৮৯৮ সালে মরগান রবার্টসন নামের এক লেখক ‘ফুটিলিটি’ নামে একটি উপন্যাস লেখেন। উপন্যাসের কাল্পনিক জাহাজটির নাম ছিল ‘টাইটান’, যা টাইটানিকের মতোই ‘অবিনশ্বর’ বলে দাবি করা হয়েছিল এবং সেটিও এপ্রিলের এক রাতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে আইসবার্গের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। দুটি জাহাজের আকার ও যাত্রী সংখ্যার মধ্যেও ছিল অবিশ্বাস্য মিল!
৩. ১৯৪১ সালের ছবিতে আধুনিক মানুষ।
১৯৪১ সালে কানাডার একটি ব্রিজ উদ্বোধনের ছবিতে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যার পোশাক ও রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাকিরা যখন কোট-টাই আর হ্যাট পরা, তখন সেই ব্যক্তির গায়ে ছিল আধুনিক গ্রাফিক টি-শার্ট, হুডি এবং চোখে সানগ্লাস। তার হাতে ছিল একটি পোর্টেবল আধুনিক ক্যামেরা। ওই যুগে এমন পোশাক বা ক্যামেরা আবিষ্কারই হয়নি। তিনি কি তবে ভবিষ্যৎ থেকে এসেছিলেন?
৪. চ্যাপলিনের সিনেমায় স্মার্টফোন! (১৯২৮)।
চার্লি চ্যাপলিনের ১৯২৮ সালের ছবি ‘দ্য সার্কাস’-এর একটি প্রিমিয়ার ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী কান বরাবর হাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এবং কথা বলছেন। তার হাত রাখার ভঙ্গিটি হুবহু বর্তমান যুগের মোবাইল ফোনে কথা বলার মতো। ১৯২৮ সালে কোনো মোবাইল টাওয়ার বা সেলফোন ছিল না, তবে সেই নারী কার সাথে কথা বলছিলেন?
৫. অ্যানড্রু কার্লসিন: ওয়াল স্ট্রিটের রহস্যময় ইনভেস্টর (২০০৩)।
২০০৩ সালে অ্যানড্রু কার্লসিন নামের এক ব্যক্তিকে এফবিআই গ্রেফতার করে। তিনি মাত্র ৮০০ ডলার নিয়ে শেয়ার বাজারে নেমে মাত্র দুই সপ্তাহে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন! প্রতিবার তিনি এমন সব ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করতেন যা কেউ ভাবতেও পারত না। জেরার মুখে তিনি দাবি করেন, তিনি ২২৫৬ সাল থেকে এসেছেন এবং কোন শেয়ারের দাম বাড়বে তা তিনি আগে থেকেই জানতেন। রহস্যজনকভাবে, জামিন পাওয়ার পর তিনি চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান।
বিজ্ঞান কী বলে ?
বিজ্ঞান এগুলোকে বিশাল মহাবিশ্বের 'ল অফ লার্জ নাম্বারস' বা নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দিলেও, ঘটনার নিখুঁত মিলগুলো সাধারণ মানুষকে বারবার ভাবায়—সময় ভ্রমণ কি আসলেই সম্ভব? অপনার কী মনেহয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your valuable feedback or questions below comment Please let me know. Thank you.