ঘরে বসে কাজের ক্লান্তি দূর করার উপায় : রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য ৫টি হেল্থ ট্রিক।
ঘরে বসে কাজের ক্লান্তি দূর করার ৫টি সহজ উপায়।
রিমোট ওয়ার্ক বা ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা অনেক হলেও, এর একটি বড় অসুবিধা হলো ক্লান্তি ও একঘেয়েমি। অফিসের নির্দিষ্ট কাজের পরিবেশ না থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় এক টানা কাজ করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এই ক্লান্তি দূর করে কাজে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনতে রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য ৫টি জরুরি হেলথ টিপস নিচে দেওয়া হলো:
১. 'পোমোডোরো' পদ্ধতি ও নিয়মিত বিরতি।
টানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নিন। প্রতি ২৫ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিটের একটি ছোট বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করুন, যাকে পোমোডোরো টেকনিক বলা হয়। এই বিরতির সময় একটু হেঁটে আসুন বা চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। এটি আপনার মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
২. কাজের জন্য নির্দিষ্ট স্থান (Workspace) নির্ধারণ।
বিছানায় বা সোফায় বসে কাজ করলে অলসতা ও ক্লান্তি বেশি ভর করে। তাই বাড়ির যেকোনো একটি শান্ত কোণকে কাজের জন্য নির্দিষ্ট করুন। একটি আরামদায়ক চেয়ার এবং টেবিল ব্যবহার করুন, যা আপনার বসার ভঙ্গি বা পোশ্চার (Posture) ঠিক রাখবে এবং পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা দূর করবে।
৩. ২০-২০-২০ নিয়মের প্রয়োগ।
টানা স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যা মাথাব্যথা ও ক্লান্তির অন্যতম কারণ। এটি এড়াতে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন। প্রতি ২০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন।
৪. পর্যাপ্ত হাইড্রেশন ও পুষ্টিকর খাবার।
কাজের টেবিলে জলের বোতল রাখুন এবং সারাদিনে পর্যাপ্ত জল পান করুন। শরীরে জলের ঘাটতি হলে দ্রুত ক্লান্তি আসে। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা-কফি বা ভাজাপোড়া স্ন্যাক্স এড়িয়ে ফলমূল, বাদাম বা ওটসের মতো পুষ্টিকর খাবার খান, যা দীর্ঘ সময় শরীরে এনার্জি ধরে রাখবে।
৫. শারীরিক সক্রিয়তা ও স্ক্রিন-ফ্রি সময়।
কাজ শেষ হওয়ার পর ল্যাপটপ বা ফোন পুরোপুরি বন্ধ করে দিন। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, ইয়োগা বা বাড়ির বাইরে গিয়ে একটু হেঁটে আসুন। শারীরিক সক্রিয়তা শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মানসিক চাপ কমিয়ে নিমেষেই ক্লান্তি দূর করে।
শেষ কথা: ঘরে বসে কাজ করার অর্থ এই নয় যে ২৪ ঘণ্টা কাজের চিন্তায় ডুবে থাকতে হবে। সুস্থ শরীর ও সতেজ মনই পারে কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে। তাই আজই আপনার দৈনিক রুটিনে এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসুন এবং সুস্থ থাকুন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your valuable feedback or questions below comment Please let me know. Thank you.