গুয়াহাটি ভ্রমন: উত্তর পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার ৩ দিনের নিখুঁত ট্যুর প্লান।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত আসামের গুয়াহাটি কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বারই নয়, এটি প্রকৃতি, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব মিশ্রণ। মাত্র ৩ দিনে গুয়াহাটির সেরা দিকগুলি উপভোগ করার জন্য একটি নিখুঁত ট্যুর প্ল্যান নিচে দেওয়া হলো:
প্রথম দিন: আধ্যাত্মিক সূচনা ও ব্রহ্মপুত্র ক্রুজ
সকাল: গুয়াহাটি পৌঁছানোর পর হোটেলে ফ্রেশ হয়ে প্রথমেই চলে যান নীলাচল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কামাখ্যা মন্দির। এটি ভারতের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ। এখানকার পরিবেশ ও প্রাচীন স্থাপত্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। দর্শনের জন্য কিছুটা সময় হাতে রাখুন, কারণ এখানে প্রায়শই ভিড় থাকে।
দুপুর: শহরের কোনো ভালো রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী অসমীয়া থালি (বাসুর্ক মাছ বা হাঁসের মাংসের সঙ্গে খার ও বিভিন্ন শাকসবজি) দিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিন।
বিকেল ও সন্ধ্যা: এরপর চলে আসুন গুয়াহাটি বোট ঘাটে। সেখান থেকে ফেরিতে চড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে ছোট নদীদ্বীপ উমানন্দ দ্বীপ (ময়ূর দ্বীপ) ঘুরে দেখুন, যেখানে রয়েছে ঐতিহাসিক উমানন্দ শিবমন্দির। সন্ধ্যার সময় ব্রহ্মপুত্র নদে সূর্যাস্ত ক্রুজ এর অভিজ্ঞতা নিন। নদীর ঠাণ্ডা হাওয়া আর জলের ওপর সোনালী সূর্যাস্ত আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে।
দ্বিতীয় দিন: সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বন্যপ্রাণী
সকাল: সকাল সকাল রওনা দিন শ্রীমন্ত শঙ্করদেব কলাক্ষেত্র-এর উদ্দেশ্যে। এটি আসামের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক বিশাল সংগ্রহশালা। এখানকার মিউজিয়াম এবং ওপেন এয়ার থিয়েটার দেখলে অসমীয়া সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
দুপুর: শহর থেকে একটু দূরে অবস্থিত পবিত্র বাসিষ্ঠ আশ্রম ও এর প্রাকৃতিক ঝরনার শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটান। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে নিন।
বিকেল: গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পবিতরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘুরে আসুন। এটি একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত। এখানে জিপ বা হাতিতে চড়ে জঙ্গল সাফারির রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।
তৃতীয় দিন: স্থানীয় বাজার ও শহরের প্যানোরামিক ভিউ
সকাল: সকালের দিকে ঘুরে দেখুন শহরের প্রাচীন নবগ্রহ মন্দির বা পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত সুন্দর সুক্রেশ্বর মন্দির। এরপর চলে যান আসাম স্টেট মিউজিয়াম, যেখানে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন ইতিহাস, ভাস্কর্য এবং উপজাতীয় সংস্কৃতির অমূল্য নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।
দুপুর ও কেনাকাটা: দুপুরের খাবারের পর গুয়াহাটির বিখ্যাত পানবাজার বা পল্টন বাজার থেকে ঐতিহ্যবাহী অসমীয়া 'গামোসা', মেখলা চাদর এবং স্থানীয় বাঁশ-বেতের হস্তশিল্প স্মারক হিসেবে কিনে নিতে পারেন।
সন্ধ্যা: ফেরার আগে গুয়াহাটির ঐতিহ্যবাহী আসাম চা সংগ্রহ করুন এবং সন্ধ্যার ফ্লাইটে বা ট্রেনে নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
গুয়াহাটি ঘোরার জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাসটি সবচেয়ে অনুকূল সময়। স্থানীয় যাতায়াতের জন্য অ্যাপ-ক্যাব বা প্রিপেইড অটো ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন